শিরোনাম :

কক্সবাজারে টিকা প্রয়োগ শুরু প্রথমে টিকা নিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,ডিসি

মহিউদ্দিন মাহি। / ১৪৪ জন
আপডেট সময় : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মানবদেহে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগের কর্মসূচী শুরু হয়েছে কক্সবাজারে।

জেলা সদর হাসপাতালে রোববার সকাল ১১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই টিকাদান কর্মসূচী উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা.জাহিদ মালেক।

জেলার প্রথম বারের মতো এই টিকাদান অনুষ্ঠানে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী।

এছাড়াও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো.মামুনুর রশীদ,সিভিল সার্জন ডা.মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা.অনুপম বড়ুয়া, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা.রফিউস সালেহীনসহ বেশ কয়েকজ প্রথম বারের মতো টিকা নিয়েছেন।

কক্সবাজারের সদরসহ ৮ উপজেলাতে একদিনেই টিকা গ্রহণ করেছেন ৩৮৭ জন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা.মাহবুবুর রহমান।

তিনি জানান,যারা গতকাল রোববার প্রথম বারের মতো শরীরে ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাঁরা আবার ৪ সপ্তাহ পর আরেক ডোজ দিবেন। গতকাল রোববার ভ্যাকসিন গ্রহণ করাদের মধ্যে,ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা,আইনশৃঙ্খলাবাহিনসহ ১৫ ক্যাটাগরীর মানুষ টিকা নিয়েছেন।

ইতিমধ্যে কক্সবাজারে আনা ৮৪ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিনে ৮ হাজার ৪০০ ভায়াল রয়েছে। প্রতিটি কার্টনে এক হাজার ২০০ ভায়াল টিকা আছে। প্রতিটি ভায়ালে টিকা রয়েছে ১০ ডোজ। সে হিসাবে কক্সবাজারের ৪২ হাজার নাগরিককে করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে। রেজিষ্ট্রেশন অনুপাতে দেয়া হবে এই করোনা ভ্যাকসিন।

কক্সবাজার জেলায় করোনার ভ্যাকসিন নিতে সরকার নির্ধারিত ক্যাটাগরীতে থাকা ১৫ ক্যাটাগরীর তালিকা থেকে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার জনের তালিকা তৈরী করা হয়েছে।

এরমধ্যে,কক্সবাজার জেলা সদরে প্রায় এক হাজার ব্যক্তি ৬ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রেজিষ্ট্রেশন করেছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান।

তিনি আরো জানান,রেজিষ্ট্রেশন চলমান থাকায় পুরো কক্সবাজার জেলায় মোট কতজন রেজিষ্ট্রেশন করেছেন তা এখনো নির্ণয় করা যায়নি।
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উদ্দিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর নাগরিকগণ হলো : সকল সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সকল সরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, স্বাস্থ্য কর্মী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য বিভাগীয় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনাবাহিনী সহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল সদস্য, বিজিবি, পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, গণমাধ্যম কর্মী, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়োজিত ব্যক্তি, রাষ্ট্র পরিচালনার নিমিত্তে অপরিহার্য সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবাদানকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, অনুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, স্বাস্থ্য কর্মী, জনপ্রতিনিধি সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকগণ, ধর্মীয় প্রতিনিধি, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণসহ যারা করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য তালিকা পাঠিয়েছেন, করোনার সম্মুখযোদ্ধা সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত স্টাফ এবং ৫৫ বছরের উর্ধ্ব বয়সী নাগরিকগণ।

রোববার সকালে জেলা সদর হাসপাতালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মহিলা সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদ,সিভিল সার্জন ডা.মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান,কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা.অনুপম বড়ুয়া প্রমুখ।

মহেশখালী

করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনেই প্রথম টিকার ডোজ নিয়েছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল হাই। গতকাল ৭ ফেব্রæয়ারী সকালে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা নিবার্হী অফিসার মাহাফুজুর রহমান,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাঃ মাহাফুজুল হক,প্রেস ক্লাব সভাপতি আবুল বশর পারভেজসহ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তারা।

কুতুবদিয়া

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান,জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল ৭ ফেব্রæয়ারি সকালে নিজ জন্মস্থান কুতুবদিয়ায় কোভিড-১৯ করোনা টিকা গ্রহণ করে উপজেলায় কোভিড -১৯ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,গুজবে কান দিবেন না। অন- লাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে করোনা টিকা গ্রহণ করে নিরাপদ থাকুন। পাশাপাশি অন্যদের উদ্বুদ্ধ করুন।
উদ্বোধনী কার্যক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান,কুতুবদিয়ায় ১৪৭৯ জনে পাবে প্রথম ধাপের করোনা টিকা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এম.জহিরুল হায়াত,এসিল্যান্ড মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ।

এদিন করোনা টিকা গ্রহণ করেন,ইউএনও জহিরুল হায়াত,এসিল্যান্ড মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী,কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ইউএইচ এন্ড এফপিও ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম,আরএমও রেজাউল হাসান,ডাঃ মাহমুদুল হাসানসহ ৩০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। টিকা প্রদান করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স(ওয়ার্ড ইনচার্জ) সালাহ উদ্দিন। কুতুবদিয়ায় প্রথম করোনা ভেকসিন গ্রহণকারী হলেন হাসপাতালের ইপিআই টেকনিশিয়ান ছৈয়দ কামরুল হাসান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর,বড়ঘোপ ইউপি’র চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন,উত্তর ধুরুং ইউপি’র চেয়ারম্যান আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দ।

উখিয়া

করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনেই উখিয়ায় টিকা নিলেন ৩০ জন। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমদ।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রঞ্জন বড়–য় রাজন ও করোনাভাইরাস ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডাক্তার এহেচান উল্লাহ সিকদার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম দিনেই প্রথম টিকা নিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী সুজন কান্তি ধর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন,উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগ সারাদেশের ন্যায় আমরা টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি।

তালিকাভুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি,স্বাস্থ্যবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কর্মকর্তাবৃন্দ,জেলার বিভিন্ন পেশাজীবি শ্রেণী,মিডিয়ার ব্যক্তিগণসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিগণকে কোভিড়-১৯ করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রঞ্জন বড়ুয়া রাজন বলেন,প্রথম দফায় ২ হাজার ৫ শত ডোজ টিকা পেয়েছি।

পরবর্তীতে আরো টিকা পাবো। সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে সবাইকে আবেদন করার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।

টিকাদান অনুষ্ঠানে ভ্যাকসিনেশন টিমে নিয়োজিত সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং সেচ্ছাসেবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সহযোগী সংস্থার বিভিন্ন স্থরের স্বাস্থ্য কর্মীগণ এবং হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ,সহযোগী সংস্থা এর সকল কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লখ্য,উপজেলার অগ্রাধিকারভূক্ত উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতি আহবান জানানো হচ্ছে, সুরক্ষা ওয়েব (ঝঁৎৎড়শশযধ.মড়া.নফ) থেকে রেজিস্ট্রেশন করে দ্রæত টিকা গ্রহণ করে নিজে ও নিজের পরিবারকে সুস্থ্য রাখার গুরু দায়িত্ব পালন করুন।

টেকনাফ

টেকনাফে উদ্বোধনের প্রথম দিনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক টিকা গ্রহণ করেছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

সারাদেশের ন্যায় টেকনাফেও শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের টিকাদান কর্মসূচি। গতকাল রবিবার সকালে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সারাদেশের ন্যায় একযোগে টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সংযুক্ত হয়ে আলোচনা শেষে এ টিকা প্রদান কর্মসূচির প্রথমে টিক গ্রহণ করেছেন পৌর প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা।

টেকনাফে করোনা প্রতিরোধক (কোভিড-১৯) এর টিকা প্রদান উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম, এবং পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা,সাংবাদিক,বিভিন্ন পর্যবেক্ষক টিম ও অন্যান্য সম্মুখ সারির যোদ্ধারা।

স্বতপূর্ত ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,টেকনাফ করোনা প্রতিরোধক (কোভিড-১৯) টিকা কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে কোভিড-১৯ এর টিকা কার্যক্রম শুরু হলো। এই পর্যন্ত ৫১ জন টিকা গ্রহণ করেছেন এবং প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যান্য সম্মুখ সারির যোদ্ধারা হাসপাতাল কেন্দ্রে এসে টিকা গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন,টেকনাফে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫শ জন মানুষ টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে। প্রথম দিন ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ক্যাটাগরির নাগরিকগণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা ভাইরাসের এই টিকা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর