শিরোনাম :

ঈদগড়ে বাউকুল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে কৃষক, কর্মসংস্থান হচ্ছে বেকারদের

এস্তে ফারুক। / ৪২ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ঈদগড়ের মিষ্টি বাউ কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশ জুড়ে। সেই বাউকুল চাষ করে এখন অনেক কৃষক হচ্ছে সাম্বলম্বী। বেকার যুবকের হচ্ছে কর্মসংস্থান।

বর্গা কিংবা নিজের জমিতে কৃষকরা চাষ করছে এ মৌসূমী ফল। ঈদগড়ে উৎপাদিত বাউকুল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঈদগড় ইউনিয়ন যেখানে কৃষকরা জমিতে বছরের পর বছর ধরে চাষ করতো বিষাক্ত তামাক। সেই জমিতে এখন দুচোখ জুড়ে দেখা মিলছে বাউকুল চাষের। বাউকুল চাষে অল্প সময়ে দ্বিগুণ লাভ দেখে এখন বহু চাষি তামাক চাষ ছেড়ে বাউকুল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী এই বছরে জেলার মধ্যে ১৬ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে বাউকুল। প্রতি হেক্টর জমিতে বাউকুল গাছের চারা রুপণ করা যায় ৭২০টি।

আর এতে বিনিয়োগ করতে হবে ৯ লাখ টাকা। এক হেক্টর বাউকুল গাছ থেকে প্রতি চলতি মৌসূমে চাষীরা কুল সংগ্রহ করছে ৩৫-৪০ মেট্রিকটন, যার বাজার মূল্য ১৮ লাখ টাকা।

অল্প সময়ে বিনিয়োগের চেয়ে লাভবান বেশি হওয়াতে কৃষকের পাশাপাশি বেকার যুবক বাউকুল চাষে আগ্রহী হচ্ছে। সুনাম ছড়িয়ে পড়া ঈদগড়ের বাউকুল বাগান হতে কুল কিনতে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনও।

বাউকুল চাষী নুরুল আলম জানান, বাউকুল চাষে লাভজনক দেখে আমরা দুই বন্ধু আগ্রহী হয়ে ঈদগড় বড়বিল এলাকায় ৫ একর জায়গায় প্রথমে কয়েকশত বাউকুল গাছের চারা রোপণ করি। সেখানে বাউকুল মৌসুমে দেখি প্রচুর পরিমানে কুল ধরে এবং কয়েক লাখ টাকা লাভ হয়। পরে বাউকুল বাগানের প্রসার ঘটায়। বর্তমানে আমারা বাউকুল বাগান থেকে প্রতি বছর বিনিয়োগের দ্বিগুণ টাকা লাভ করছি।

জেলার প্রথম বাউকুল উদ্যোক্তা রহিম উল্লাহ জানান, বাউকুল চাষে লাভ দেখে বেকার যুবকরা এই ফল চাষের দিকে ঝুকছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক বেকার যুবক এখনো বসে আছে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেকারদের সংঘবদ্ধ করে বাগান করার উদ্যোগ নিলে কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।

ঈদগড় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী নুরুল আলম জানান,ঈদগড়ে বাউকুল চাষ করে অনেক বেকার যুবক সাম্বলম্বী হচ্ছে। সরকারি পৃষ্টপোশকতা পেলে এই বাউকুল চাষের আরো প্রসার ঘটবে। আমরা কৃষি খাতে এগিয়ে যাব বলে জানালেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক, (ভারপ্রাপ্ত) মো.আতিক উল্লাহ জানান, তামাকের চেয়ে কৃষকরা বাউকুল চাষ করে লাভবান হচ্ছে,যার কারণে বাউকুল চাষ বাড়ছে। এই বাউকুল চাষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বেকার যুবদের উদ্বুদ্ধ করছে। যাতে করে স্থানীয় ভাবে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এমটি জানালেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
সল্প সময়ে অল্প জমিতে বাউকুল চাষ করে একজন বেকার যুবক হতে পারে অর্থনৈতিক ভাবে সাম্বলম্বি। একজন কৃষক হতে পারে সফল উদ্যোক্তা। এর জন্য প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সহযোগিতার পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। এমনটাই মনে করেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর