শিরোনাম :

টাকা ছাড়া কাজ হয় না চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসে

শাহেদ ফেরদৌস হিরু। / ৪৭ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সরকারের শতাভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের হাট্টলি আলি পাড়া গ্রামে বৈদ্যুতিক খুটি স্থাপন,বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মিটার স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হক চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের দালাল মো.শাহজাহান, মো.সেলিম, নয়ন, ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম, ও চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়,হারবাং হাট্টলি আলী পাড়ায় ৫৮ টি বিদ্যুতের খুটি স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবারাহ ও মিটার সংযোগের জন্য ৯৭টি পরিবারের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ সংযোগের নামে প্রতি পরিবারের কাছ ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের দালাল ও কর্মকর্তারা।

এছাড়াও ৯৭ পরিবারের কাছ থেকে মিটার সংযোগের জন্য সরকারী ফি বাবদ মিটার প্রতি ২ হাজার ৬শ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়ার জন্য দালাল কর্তৃক এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার হিসাব, কথোপকথন ও টাকা দেওয়ার স্বীকারোক্তি উঠে এসেছে উক্ত প্রতিবেদকের কাছে।

উক্ত হিসাবে দেখা যায়,২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের সংযোগের জন্য খরচ বাবদ ৯৭ পরিবারের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। আবার সে টাকা গুলো বিভিন্ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস খরচ ৩ লক্ষ টাকা, ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম ৬৩ হাজার,ঠিকাদারের ফোরম্যান বেলাল ৩০ হাজার,ঠিকাদারের ফোরম্যান নয়ন ৫৩ হাজার,নাস্তার বিল ৩০ হাজার,খাবার বিল ৫০ হাজার,গাড়ি ভাড়া ৭০ হাজার টাকা,লেবার খরচ ৪০
হাজার ও অন্যান্য ২ লক্ষ টাকা।

কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান,মিটারের আবেদন সঠিক নিয়মে করার পরেও দালাল না ধরার কারনে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরে মিলেনি মিটার। অথচ দালালকে কিছু টাকা দিলেই মিলে মিটার। দালাল ছাড়া চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগে কোন কাজ হয়না বলে জানালেন ভুক্তভোগীরা।

বিদ্যুৎ সংযোগের প্ল্যান পাশ করার জন্য চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন-১ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বিদ্যুৎ অফিসের দালাল মো.সেলিম বলেন,হারবাং হাট্টলি পাড়ার বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন পাশ করার জন্য শাহজানের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা নিয়েছি। অথচ আমার নাম ব্যবহার করে শাহজান লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এত বড় প্রকল্প পাশ করিয়ে মাত্র দশ হাজার টাকা পেয়েছি আমি। এ প্রকল্পে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে হরিলুট করেছে একটি চক্র।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যান নয়ন জানান,বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করতে গেলে অনেক খরচ আছে। আমরা অল্প কিছু খরচ নিয়েছি মাত্র। সবচেয়ে বেশি নিয়েছে ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম,শাহজাহান ও সেলিম।

এ বিষয়ে চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী গীতি বসু চাকমা বলেন,চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসে যোগদান করেছি বেশিদিন হয় নাই। এ প্রকল্পের বিষয়ে আমি অবগত নই।

এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার বিতরণ বিভাগ,বিদ্যুৎ উত্তর বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আব্দুল কাদের গণিকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।

বিদ্যুৎ ও মিটার সংযোগের জন্য অতিরিক্ত লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন-১ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল হক টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর